
বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মাইক্রোবাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে সাত মাস বয়সী এক শিশু ও এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় বর-কনেসহ আরও ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে নীলফামারী কিশোরগঞ্জ-টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (২০)। রিয়াদ ইসলাম চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোরে নীলফামারী সদর কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বিয়েতে বরসহ প্রায় ১৫ জন বরযাত্রী অংশ নেন।
বিয়ে শেষে নববধূকে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে সবাই বাড়ি ফিরছিলেন। শনিবার ভোর ৪টার দিকে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বর-কনেসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন এবং আহতদের কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাত মাস বয়সী শিশু জীবন ইসলাম ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়াদ ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, গভীর রাতে ১৪ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।