নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামে পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত হওয়ার পাঁচ দিন পর মীর ইসমাইল হোসেন (৮০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মা ও ছেলেসহ দুইজনকে আটক করেছে। হত্যার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মীর ইসমাইল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মীর ইয়াসিন আলীর ছেলে।
নিহত মীর ইসমাইল হোসেন উপজেলার সদর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মীর ইয়াসিন আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে গত ১৬ জুলাই এলাকায় আয়োজিত একটি পিকনিকে খাবার পরিবেশনের জন্য মীর ইসমাইল হোসেনের কলাগাছের পাতা কেটে ব্যবহার করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে ওই দিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উভয় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত হন মীর ইসমাইল হোসেন। এ সময় তাঁর ছেলে মীর সোহরাব হোসেন (৫৫) ও স্ত্রী মোমেনা বেগম (৭০) আহত হন। পরে স্বজনরা তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার গভীর রাতে মীর ইসমাইল হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। তবে রাজশাহীতে নেওয়ার পথে নওগাঁ শহরের রুবির মোড় এলাকায় রাত আনুমানিক ২টা ৫০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে আহত হওয়ার ঘটনায় ১৯ জুলাই বদলগাছী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশের অভিযানে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—মীর মো. বাঁধন (২৫), মীর মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের ছেলে এবং মোছা. বেদেনা খাতুন (৫০), মীর মোহাম্মদ মোশারফ হোসেনের স্ত্রী।
ঘটনার পর বদলগাছী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্নের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।