ঢাকার ধামরাইয়ে রূপা আক্তার নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা ঘটিয়েছে রূপার দেবর পুলিশ সদস্য শাওন হাসান। এ ঘটনায় রুপার স্বামী জাকির হোসেন দির্ঘদিন থানায় ঘুরতে থাকে মামলার জন্য। কিন্তু থানা পুলিশ একটি অভিযোগ নেন। কিন্তু সেই অভিযোগের কোন তদন্ত ঠিক মতো করেন নি বলে অভিযোগ করেন রুপার স্বামী জাকির হোসেন। পরে তিনি আদালতে গিয়ে েকটি মামলা করেন শাওন হাসান, তার ভাই ও শাওনের বাবা মায়ের নামে। আদালত ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত...
852
ঢাকার ধামরাইয়ে রূপা আক্তার নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যা ঘটিয়েছে রূপার দেবর পুলিশ সদস্য শাওন হাসান। এ ঘটনায় রুপার স্বামী জাকির হোসেন দির্ঘদিন থানায় ঘুরতে থাকে মামলার জন্য। কিন্তু থানা পুলিশ একটি অভিযোগ নেন। কিন্তু সেই অভিযোগের কোন তদন্ত ঠিক মতো করেন নি বলে অভিযোগ করেন রুপার স্বামী জাকির হোসেন। পরে তিনি আদালতে গিয়ে েকটি মামলা করেন শাওন হাসান, তার ভাই ও শাওনের বাবা মায়ের নামে। আদালত ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত করে রিপোর্ট দিকে বলা হলেও ধামরাই থানা পুলিশ এ বিষয়ে কোন কাজই করেন নি বলে জানান রুপার স্বামী।
এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাগাইর গ্রামে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, শাওন হাসানের চাচাতো ভাই জাকির হোসেন ২০১৯ সালে রূপা আক্তারের বিয়ে করেন । বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই অভিযুক্ত দেবর পুলিশ সদস্য শাওন হাসান রূপাকে প্রেমের প্রস্তাবসহ অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর চেষ্টা চালাতে থাকে। একপর্যায়ে শাওনের প্রস্তাবে রাজি হয়ে দেবরের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন রূপা। এরই মধ্যে রূপা ও জাকির দম্পতির একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে এতেও দেবর ভাবির প্রেমের সম্পর্কে ভাটা পরেনি। মাঝেমধ্যেই স্বামী জাকির হোসেনের অনুপস্থিতিতে দেবর শাওনকে নিজের ঘরে ডেকে নিতেন রূপা। গোপনে তৈরি করতেন টিকটক। একদিন রুপার ঘরে ডেকে নেয়ার এই দৃশ্য দেখে ফেলেন রূপার শ্বশুর ও শাওনের আপন চাচা জামাল উদ্দিন।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি নিজের ভাতিজা শাওনকে মারধর করেন এবং একাধিকবার তাদের এসব অনৈতিক কাজের বিচারও করেন। তবে সালিশি বৈঠক বসালেও এর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। শাওন জানিয়ে দেয় রূপাকে ছাড়া সে বাঁচবে না। অথচ শাওন বিবাহিত। অন্য কোনো উপায় না পেয়ে পারিবারিক ঝামেলা এড়াতে ও মান-সম্মান রক্ষার জন্য, চাচাতো ভাইয়ের হাত থেকে সংসার বাঁচাতে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে নিজ বাড়ি ছেড়ে বাগাইর গ্রামে রুপার বড় বোনের বাড়ির পাশে একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন ভুক্তভোগী জাকির হোসেন। তবে বাড়ি ছেড়েও নিজের সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেননি জাকির। সেখানেও হাত পড়ে চাচাতো ভাই পুলিশ সদস্য শাওন হাসানের। বাড়া বাড়িতেও রুপা জাকিরের মাঝে দ্বন্দ্ব চলতো শাওনকে নিয়ে। গোপনে দেবর ভাবীর সম্পর্ক চলতে থাকে। তবে রুপা শেষে নিজ সন্তানের কথা চিন্তা করে শাওনের সাথে বাড়ি ছেড়ে যেতে না চাইলেই ঘটে ভিন্ন ঘটনা। শাওনের হাতেই মৃত্যু হয় রুপার বলে অভিযোগ করেন রুপার স্বামী জাকির হোসেন ও তার স্বজনরা।
এ বিষয়ে নিহত রূপার স্বামী জাকির হোসেন বলেন, আমি বিয়ের পর হতেই আমার স্ত্রী ও আমার চাচাত ভাই শাওনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। এ নিয়ে আমার বাড়িতে একাধিক বার শাওনের বিচার করা হয়েছে। শাওনকে তার পরিবার ও মাতব্বর রা চাপ দেয় নিজের স্ত্রীকে বাড়িতে নিয়ে আসতে। কিন্তু শাওন তা না করে আমার স্ত্রীর সাথে আরো অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে। পরে নিজের সংসার টিকিয়ে রাখতে স্ত্রী ও তিন বছরের মেয়েকে নিয়ে বাইশাকান্দা ইউনিয়নের বাঘাইর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতে থাকি। এখানও শাওন চলে আসে। একাধিক বার আমার গোপনে আমার বাসায় আসে। আমার স্ত্রী রুপাকে নিয়ে পালাতে চাইলে সে রাজি না হওয়ায় তাকে গলা টিপে মেরে রশি দিয়ে ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রাখে। এ ব্যাপারে থানায় ঘুরেও লাভ হয় নি। নামে মাত্র একটি অভিযোগ নিয়েছে।পরে আমি কোর্টে মামলা করি। কোর্ট ১০ দিনের মধ্যেই তদন্ত রিপোর্ট দিতে বললেও থানা পুলিশ এ নিয়ে কোন গুরুত্বই দিচ্ছে না। নাকি শাওন পুলিশ সদস্য বলে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ঔই শাওনই আমার সংসার নষ্ট করেছে।
নিহত রূপার বড় বোন সুবর্না আক্তার বলেন, আমার বোনের মৃত্যুর জন্য শাওনই দায়ী। সে সব সময় ফুসলাই আমার বোনের সংসার নষ্ট করেছে। তিন বছরের ছোট বাচ্চা রয়েছে এখন তার কি হবে। শাওনের উপযুক্ত শাস্তি চাই। সে পুলিশে চাকরি করে বলে থানা পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেন নি। আমরা অসহায় গরিব বলে কি ন্যায় বিচার পাবো না। শাওনের নিজের স্ত্রী থাকা সত্বেও সে কেন আমার বোনের এতো বড় ক্ষতি করলো।
নিহত রূপার বোন জামাই আলমগীর হোসেন বলেন, রুপার সংসার টিকিয়ে রাখতে এবং মান সম্মান বাচাতে আমার বাড়ির পাশে ভাড়া বাসায় ওদের রাখি। তারপরও শাওনের কারণে সংসার নষ্ট হয়েছে। এ নিয়ে অনেক বিচার হয়েছে। নিজের স্ত্রী থাকা সত্বেও সে রুপার এতো বড় ক্ষতি করলো। ছোট বাচ্চা রয়েছে রুপার। তার এখন কি হবে।জাকিরের চাচাতো ভাই শাওন নতুন ভাড়া বাসার ঠিকানা জোগাড় করে জাকিরের অনুপস্থিতিতে আবারও রূপার কাছে নিয়মিত আসা–যাওয়া শুরু করে। গত নভেম্বর মাসের ২৭ তারিখ রাতে জাকির বাসায় না থাকায় শাওন রূপার কাছে আসে এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে সময় প্রতিবেশীরা বিষয়টি দেখে ফেললে শাওন তড়িঘড়ি করে সেদিন চলে যায়। রূপা তখন প্রতিবেশী সাজেদা বেগম সালুর কাছে অনুরোধ করেন, বিষয়টি যেন আর কাউকে না জানানো হয়। বিশেষ করে তার স্বামী জাকিরকে।
প্রতিবেশী সাজেদা বেগম সালু বলেন, আমি রুপা শাওনের বিষয়টি জেনে যাই। তখন রুপা আমার পায়ে ধরে। যেন বিষয়টি কাউকে না বলি।
আরো জানা যায়, ২৮ নভেম্বর রাতে রূপার স্বামী জাকির হোসেন বাসায় ফিরে এসে দেখেন—তার স্ত্রী রূপা ঘরের ভেতরে রশিতে ঝুলছে। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রূপাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রথমে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা মনে করা হলেও দুই দিন পর রূপা ও জাকির দম্পতির তিন বছরের কন্যাসন্তান জিমহা বলেন, শাওন আসছিলো এবং তার মাকে শাওন গলা টিপে ও রশি দিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি কান্না করায় ধমক দেয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য শাওন হাসানকে মুঠোফোনে রূপা ও অভিযুক্ত শাওনের প্রেমের সম্পর্কে জানতে চাইলে শাওন বলেন, এবিষয়ে সে কিছুই জানে না।
তবে তাদের প্রেমের সম্পর্কের কথা এলাকার সবাই জানে এবং তাদের হুয়াটসঅ্যাপে কথার স্কিনশর্ট দেখলেই বোঝা যায় তাদের সম্পর্ক। এছাড়াও শাওন তার টিকটক আইডিতে রূপার ছবি ব্যবহার করে টিকটিক বানিয়েছে। পুলিশ সদস্য শাওন নিজে বিবাহিত হওয়া সত্বেও নিজের স্ত্রীকে তার বাবার বাড়ি রাখেন। আর গোপন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন ভাবীর সাথে।
এঘটনার পর ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কোনো অগ্রগতি না দেখে, স্ত্রী রূপা হত্যার অভিযোগে চাচাতো ভাই শাওন হাসানকে আসামি করে বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত (ধামরাই)-এ একটি মামলা দায়ের করেন জাকির হোসেন।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, রুপা আক্তারের স্বামী জাকির হোসেন দাবী করেছে তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয়েছে। সে আদালতে মামলা করেছেন। বিজ্ঞ আদালত আমাদের কাছে যে তথ্য জানতে চেয়েছেন আমরা সেই অনুযায়ী তদন্ত করে আদালতে তথ্য দিয়েছি।