
একটু অস্বস্তিকর, একটু অ্যাডাল্ট প্রসঙ্গঃ গঙ্গাল সভ্যতার যৌনতা। পদিপিসি ও পদিপিসেরা এখান থেকেই পড়া বন্ধ করতে পারেন।
এমন মিথুনমূর্তি দেখেছেন, যেখানে নারীর তুলনায় পুরুষটি সামান্য খর্বাকার? চন্দ্রকেতুগড়ে পাওয়া গেছে। নারী পুরুষ উভয়েই সমান উচ্চতার, খুব বেশি দেখেছেন? চন্দ্রকেতুগড়ে একাধিক।
বাকি ভারত সেযুগেও নারী পুরুষ সমানাধিকারে বিশ্বাস করতে পারত না। বাঙালির যৌনতা সেযুগেও মেয়েদের সম্মান দিয়েছে।
মৈথুনরত মূর্তিগুলির মধ্যে বৃহদাংশই একটি খাটে শয়নরত নারীর সঙ্গে সংলগ্ন অবস্থায় মেঝেতে দণ্ডায়মান পুরুষ, এটি চন্দ্রকেতুগড়ের সর্বাধিক প্রিয় যৌনতার স্মারকলিপি । দুয়েকটি ক্ষেত্রে নারীর মুখটি একটি বৃহদাকার ফুলে পরিণত। খাটের নিচে বা পাশে প্রায়শ একটি ফুলের বা শস্যের মঙ্গলঘট। বোঝা যাচ্ছে এখানে প্রেম ও যৌনতা এক হয়ে গেছে ঐশ্বরিকতার সঙ্গে।আপনারা জানেন, পশ্চিমীদের মধ্যে মিশনারি পোজিশন বলা হয়, যেখানে নারী নিচে, পুরুষ ওপরে চেপে থাকে। উল্টোটা চেয়েছিল লিলিথ, সে পুরুষকে নিচে পেতে চেয়েছিল, নিজে ওপরে থাকতে চেয়েছিল, তাই নাকি তাকে অভিশপ্ত করেছিলেন জিহোভা, ইহুদিদের প্রাচীন লোককথায় বলে। প্রাচীন প্রবাদ এই যে লিলিথকে নির্বাসিত পরেই বাধ্য অনুগত ইভকে সৃষ্টি করা হয় অ্যাডামের পাঁজর থেকে।
আমাদের বাঙালি পূর্বমানুষদের মধ্যে লিলিথ অভিশপ্ত হতেন না। চন্দ্রকেতুগড়ে এমন ফলক দেখছি যেখানে নারী ওপরে এবং পুরুষ তার নিচে বসে আছে। তাছাড়া আমাদের মধ্যে এমন ঈশ্বরধারণা বহুযুগ ধরে পূজিত যেখানে শক্তির পায়ের তলায় শিব, প্রকৃতির পায়ের তলায় পুরুষ।
আর প্রাচীন বাঙালির মধ্যে এই যে মিথুনভঙ্গি, যেখানে নারী শয্যায় শয়নরত, সেখানেও নারী ঠিক নিচে নেই পুরুষের, কারণ পুরুষটি বরং দাঁড়িয়ে আছে। একে স্ট্যান্ড অ্যান্ড ডেলিভার পোজিশন বলা যেতে পারে। আর এটা লিখতে খানিকটা অপ্রস্তুত হলেও বলি, এই অবস্থায় সম্ভবত নারীরা সর্বাধিক উপভোগ করেন, অন্তত কয়েকটা সোর্স থেকে তাই জানলাম।
প্রথম ছবিটিই এই অবস্থানের। দেখুন।
প্রসঙ্গত তথাকথিত মিশনারি পোজিশন একটিও দেখতে পাচ্ছি না আমার সংগ্রহে থাকা চন্দ্রকেতুগড় পোড়ামাটি ফলকের ছবিগুলিতে।
যে শক্তি হইতে উৎপত্তি, সে শক্তি তোমার পত্নী কী কারণ? এ বাঙালির দেশের যোগ্য কবির লড়াই বটে। চন্দ্রকেতুগড়ের একটি ফলকে দেখুন প্রকৃতির কোলে পুরুষ (এটা মায়ের কোলে সন্তান বলে চালানো যাবে না, কারণ পুরুষটি আয়তনে ছোট হলেও সে পূর্ণবয়স্ক, এবং মাথার মুকুট তার স্টেটাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে)।
বাঙালি পুরুষ হয়ে জন্মানো বড় কম গর্বের বিষয় নয়। পৃথিবীজোড়া কদর্য পুরুষতন্ত্রের মধ্যে বাঙালি পুরুষের পূর্বজরা খানিক ওয়েসিস। তাঁদের সেলিব্রেট করা দরকার।
চন্দ্রকেতুগড়ের এই সভ্যতা অস্তাচলে চলে গেছিল, কিন্তু তাও এর দেড় হাজার বছর পরে জয়দেবের কৃষ্ণ অত্যন্ত সহজে রাধার পা ধরতে পেরেছেন, কারণ জয়দেবের কৃষ্ণ-রাধা দুজনেই বাঙালি।