আগামী ১২’ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামীলীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭’ই জানুয়ারি নিজেদের অধীনে অনুষ্ঠিত ৩ টি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় বহাল থাকলেও নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম হয়েছে। দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ও সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ- বিগত ৩ টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। ফলে জন্ম হয়েছে ফ্যাসিবাদের। সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকায় আওয়ামীলীগ সুযোগ পেয়েছে লাগামহীন দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার। অবশেষে ২০২৪ সালের ৫’ই আগস্ট ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দো’লনের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামীলীগ। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সারা দেশের জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় দিন গুনছে। একইসাথে সারাদেশের জনগণের মধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।
আগামী সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার চারটি আসন থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোট ২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের পাশাপাশি প্রার্থীদের মধ্যেও বিরাজ করছে বিভিন্ন প্রকার শ’ঙ্কা। গত ৪-ঠা জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়ার পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন কুষ্টিয়ার চারটি আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীরা। নির্বাচন নিয়ে কোন চ্যালেঞ্জ আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কুষ্টিয়া-০১ (দৌলতপুর) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন- “আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে অবশ্যই আমি চ্যালেঞ্জিং হিসেবে নিচ্ছি। দৌলতপুর বর্ডার এলাকা। এর মধ্যে কিছু এলাকা সন্ত্রা’স কবলিত আছে। দৌলতপুরে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচুর অ’স্ত্র ঢুকছে। গত কয়েকদিন আগে চারটি অ’স্ত্র উদ্ধার হয়েছে। আমি প্রশাসনকে অনুরোধ করবো, প্রশাসন যেন আরো শক্ত ভাবে এই অ’স্ত্র উদ্ধারের ব্যবস্থা করে। নির্বাচনের আগে সন্ত্রা’সীদের গ্রেফতার করে কারাগারে নিক্ষেপ করে।
নির্বাচন নিয়ে কোন শ’ঙ্কা অনুভব করছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে কুষ্টিয়া-০৩ (সদর) আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুক্তি আমির হামজা বলেন- “নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড লাগবে, এখনও হয়নি। আমার মনে যেটা চায়, এখনও হয়নি। ২২ তারিখের পরে কি হবে, এখনও জানিনা। ২২ তারিখের পরে আশা করছি এগুলো ১০০ ভাগ ঠিক হয়ে যাবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে যে সমস্ত দৃশ্য গুলো দেখতে পাচ্ছি, তার মানে এখনও আমাদের মনমতো হয়নি। আমরা আশা করবো, মন মতো হবে। যে সমস্ত বিষয়গুলো লিখে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে, এগুলো যদি ফলো করা হয়, প্রত্যেকটা প্রার্থী যারা আছে- তাদের দলের লোকজন যদি এগুলো মেনে চলে, আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে”। শ’ঙ্কার প্রশ্নে তিনি বলেন- “শ’ঙ্কা বলতে আমাদের কুষ্টিয়া সদর থানা পুরোটা পুড়ে যাওয়ার কারণে ও অ’স্ত্রগুলো লু’ট হওয়ার কারণে আমরা এখনো আ’তঙ্কে আছি। কারণ এই অ’স্ত্রগুলো কোথায় আছে। এগুলো এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। আমরা আশা করছি, খুব তাড়াতাড়ি যেনো…। বারবার আশ্বাস দিচ্ছে, যে আমরা করছি। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কিছু দেখিনি। এগুলো তাড়াতাড়ি উদ্ধার করা লাগবে। এবং বর্ডারের অ’স্ত্র এবং অন্যান্য যে বিষয়গুলো আসছে, এগুলো বন্ধ করা লাগবে। নয়তো নির্বাচন সুষ্ঠ করা সম্ভব না”।
জনসাধারণের দাবি, স’ন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত এবং অবৈধ অ’স্ত্র বাণিজ্যের সাথে জড়িতদের আগামী নির্বাচনের আগে গ্রেফ’তার করা না হলে, একসময়ের সন্ত্রা’সের জনপদখ্যাত কুষ্টিয়ার চারটি আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।