জামালপুর জেলায় গৃহবধূকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড ও এক কিশোরীকে অপহরণের দায়ে ৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সাথে হত্যা মামলায় স্বামীকে ৫ লাখ টাকা ও অপহরণ মামলায় ১জনকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
আজ (২০ জুলাই ২০২৬) সোমবার দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী হাফিজুল ইসলাম জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর এলাকার মৃত প্রধান শেখের সন্তান এবং অপহরণ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী শামীম, সাদেক এবং জালাল মিয়া জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও বিষ্ণুপুর এলাকার বাসিন্দা।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ফজলুল হক জানান- ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধু হনুফা বেগমকে মারধর করে হত্যা করে তার স্বামী হাফিজুল। খবর পেয়ে গৃহবধূর পরিবার ভোলা থেকে এসে মরদেহ নিয়ে যায়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ থানায় গৃহবধূর মা আমেনা বেগম বাদী হয়ে ৫ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ৭জনের স্বাক্ষ্য-প্রমান শেষে আদালত গৃহবধূর স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন এবং ৪জনকে খালাস প্রদান করেন।
এডভোকেট ফজলুল হক আরো জানান-২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে সেই সময়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থী কিশোরী বাড়ি থেকে প্রাইভেটে যাবার সময় হরিপুর এলাকা থেকে অপহরন করে আসামীরা। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে জামালপুর থানায় অভিযোগ করলে গাজীপুর জেলা থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ। সেই মামলায় ৭জনের স্বাক্ষ্য-প্রমান শেষে তিনজনকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় আদালত এবং আসামী জালালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়।
জামালপুর বিজ্ঞ আদালতের আজকের এই সন্তোষজনক রায়ে, রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষ উভয়েই সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে