
একজন নারীর স্তন অত্যন্ত সংবেদনশীল অঙ্গ, এবং কোনো অপরিচিত পুরুষের স্পর্শে তার অনুভূতি কেমন হবে তা মূলত নির্ভর করে পরিস্থিতি (Context), সম্মতি (Consent) এবং ওই নারীর মানসিক অবস্থার ওপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি একটি মিশ্র বা নেতিবাচক অভিজ্ঞতাই হয়ে থাকে।
বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হলো:
১. নিরাপত্তা ও অস্বস্তি (Security & Discomfort)
যদি স্পর্শটি অনিচ্ছাকৃত বা ভিড়ের মধ্যে হয় (যেমন বাস বা মার্কেটে), তবে নারী সাধারণত প্রথমে শকড বা স্তব্ধ হয়ে যান। এটি তার ব্যক্তিগত পরিসরে (Personal Space) একটি বড় আঘাত হিসেবে গণ্য হয়। তিনি আতঙ্কিত বা নিরাপত্তাহীন বোধ করতে পারেন।
২. বিরক্তি ও ক্ষোভ (Annoyance & Anger)
অচেনা কেউ স্পর্শ করলে অধিকাংশ নারীর মনে তীব্র ঘৃণার উদ্রেক হয়। তারা বিষয়টিকে অপমানজনক মনে করেন। অনেক ক্ষেত্রে এটি “ইভ টিজিং” বা যৌন হয়রানি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তারা মানসিকভাবে আক্রমণাত্মক বা আত্মরক্ষামূলক হয়ে ওঠেন।
৩. শারীরিক প্রতিক্রিয়া (Physical Response)
শারীরিকভাবে স্তন স্পর্শকাতর হওয়ায় সেখানে স্নায়ু উদ্দীপনা কাজ করে, কিন্তু অপরিচিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে মস্তিষ্কে আনন্দদায়ক হরমোনের পরিবর্তে স্ট্রেস হরমোন (যেমন কর্টিসল) নিঃসৃত হয়। ফলে উত্তেজনা আসার বদলে শরীর সংকুচিত হয়ে যায় বা পেশি শক্ত হয়ে যায়।
৪. ভয় ও ট্রমা (Fear & Trauma)
যদি স্পর্শটি জোরপূর্বক বা অভদ্রভাবে করা হয়, তবে নারী দীর্ঘমেয়াদী ট্রমায় ভুগতে পারেন। তিনি অপরিচিত পুরুষদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে পারেন এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে যেতে ভয় পেতে পারেন।
পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ভিন্নতা:
* দুর্ঘটনাবশত স্পর্শ: যদি নারী বুঝতে পারেন যে স্পর্শটি অনিচ্ছাকৃত (যেমন ভিড়ে ধাক্কা লেগে), তবে তিনি হয়তো অস্বস্তি বোধ করবেন ঠিকই, কিন্তু সাধারণত বড় কোনো প্রতিক্রিয়া দেখান না।
* উদ্দেশ্যমূলক স্পর্শ: যদি বোঝা যায় স্পর্শটি ইচ্ছাকৃত, তবে তিনি নিজেকে নোংরা বা কলুষিত মনে করতে পারেন এবং তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভুগতে পারেন।
> সারকথা: সম্মতিহীন স্পর্শ কখনোই ইতিবাচক অনুভূতি দেয় না। এটি একজন নারীর মর্যাদা, গোপনীয়তা এবং মানসিক প্রশান্তির ওপর বড় আঘাত। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীর মনে বিরক্তি, ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।