
ওই
ভাবা যায়! একটি জীবন্ত আর্টিলারি শেল দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে ঘরে পড়ে ছিল সাধারণ এক টুকরো লোহার মতো। কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালি গ্রামের এই ঘটনাটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি শিউরে ওঠার মতো ভয়ংকর।
ঘটনাটি আসলে কী ছিল?
বাড়ির মালিক পাখি খাতুনের স্বামী আসমত উল্লাহ ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র ওয়ারেন্ট কর্মকর্তা। চাকরিকালীন সময়ে কোনো এক সময় তিনি ১৭ কেজি ওজনের এই ভারী শেলটি সংগ্রহ করেছিলেন—হয়তো নিছক স্মৃতি হিসেবেই। কিন্তু তার মৃত্যুর পর পরিবারের কেউ ঘুণাক্ষরেও জানত না যে, ঘরের কোণে পড়ে থাকা এই বস্তুটি আসলে একটি মরণাস্ত্র!
অসচেতনতার ১৫ বছর
পাখি খাতুন দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এটিকে স্রেফ এক টুকরো ভারী লোহা ভেবে ঘরের কোণে রেখে দিয়েছিলেন। সম্প্রতি অভাবের তাড়নায় ঘর পরিষ্কার করার সময় তিনি এটিকে কেজি দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ৩০ টাকা কেজি দরে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রিও করে দেন তিনি।
যেখানে লুকিয়ে ছিল আসল ‘টুইস্ট’
ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী যখন লোহাটি ওজন দিচ্ছিলেন, তখনই তার অভিজ্ঞ চোখে ধরা পড়ে এর অদ্ভুত গড়ন। তিনি বুঝতে পারেন এটি সাধারণ কোনো লোহা নয়, বরং একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক! আতঙ্কে তিনি সাথে সাথে সেটি পাখি খাতুনকে ফেরত দিয়ে যান। পরবর্তীতে পুলিশ খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে তলব করে এবং তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শেলটি উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করে।
পাখি খাতুনের আতঙ্ক
ঘটনা জানার পর থেকে পাখি খাতুনের যেন কথা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। তিনি বলেন—
> “আমি ভেবেছিলাম এটা লোহা, তাই কখনও ভয় পাইনি। এখন যখন জানলাম এটা বোমা ছিল, তখন থেকে আমার হাত-পা কাঁপছে। আমার অবুঝ ছেলেটার কিছু হয়ে গেলে কী হতো, ভাবলেই কলিজা শুকিয়ে যাচ্ছে।”
>
আমাদের জন্য শিক্ষণীয়
অসচেতনতা যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ট্র্যাজেডি ডেকে আনতে পারে। আপনার আশেপাশে বা পুরনো মালামালের মধ্যে কোনো সন্দেহজনক, ভারী বা অদ্ভুত আকৃতির ধাতব বস্তু দেখলে কখনোই নিজে নাড়াচাড়া করবেন না। দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনকে জানান।
আপনার আশেপাশে এমন অদ্ভুত কোনো জিনিস কখনও দেখেছেন কি? এই ঘটনা নিয়ে আপনার মতামত