বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় রাজনৈতিক প্রভাবে মধুমতি নদীর চরের খাস জমি দখলের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিশ্বাস গ্রপ ও শেখ গ্রুপের মধ্যে চলছে রক্তের হোলিখেলা। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় এই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে শেখ গ্রুপের রাজিব শেখ (২৫) নামের এক যুবক নিহত ও আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
সংঘর্ষ পরবর্তী হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগে ৩০টি বাড়িঘর ও দোকান ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। এদিকে শনিবার (২৮ মার্চ) রাজিব শেখ নিহতের ঘটনায় সৌরভ বিশ্বাস (১৯) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।গ্রেপ্তারকৃত সৌরভ মচন্দপুর গ্রামের সোহেল বিশ্বাসের ছেলে। শনিবার দুপুরে মরদেহের ময়না তদন্ত শেষে উপজেলার চিংগড়ী গ্রামে পারিবারিক করবস্থানে নিহত যুবক রাজিব শেখের দায়ন সম্পন্ন হয়েছে। দুই গ্রুপের মধ্যে ফের সংঘর্ষের আশংকায় পাশাপাশি দুৃই গ্রাম মচন্দপুর ও চিংগড়ীতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার সকালে সরেজমিনে চিতলমারী-পাটগাতি সড়কের চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে দেখা যায় সড়কজুড়ে ইটের টুকরা পড়ে রয়েছে। এই দুটি গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চিংগড়ী গ্রামের শেখ বাড়িগুলো আগুনে পুড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। অনেকে এসছে প্রতিহীংসার আগুনে পুড়ে যাওয়া বাড়িঘর দেখতে। এসব বাড়ির অনকের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন। একবেলা খাবারেরও ব্যবস্থা নেই বেশিরভাগ ঘরে। হামলায় নিহত রাজিবের বাড়ির পেছনে দুই ডেক্সিতে সবার জন্য এক সাথে খাবার রান্না হচ্ছে। আর শেখ পরিবারগুলোর বেশিরভাগ সদস্য লুট হওয়া সম্পদ ও পুড়ে যাওয়া বাড়ি ঘর হারানোর কষ্টে ঘরের সামনে অসহায় বসে আছেন।
এদিকে শেখ গ্রুপের হামলার আশঙ্কায় পুরুষশুন্য মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস বাড়ি থেকে টিভি, ফ্রিজ, খাটসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল ভ্যান, নসিমন ও পিকআপে করে আত্মীয় স্বজনের বাড়ি পাঠাচ্ছেন।
তারা বলছেন, শেখ গ্রপের লোকজন সংগঠিত হচ্ছে, তারা আমাদের বাড়িতে হামলা করবে। আলম শেখ মারা গেলেও এমন হামলা করেছিল।
বিশ্বাস ও শেখ পরিবারের মধ্যে বিরোধের কারণ সম্পর্কে আমিনুল হক, খোরশেদ আলম ও নূর মোহম্মদ বলেন, ২০১৪ সাল থেকে মধুমতি চরের সরকারি জমি দখল নিয়ে মচন্দপুর গ্রামের সাঈদ বিশ্বাস গ্রুপ ও চিংগড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শেখ মনজুরুল আলম গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন জমিসহ রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা আলম শেখকে হত্যা করে। হত্যার পরেও থামেনি দুই পরিবারের বিরোধ। এই বিরোধে এর আগেও কয়েকবার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বাস গ্রপের লোকজন বিএনপির সমর্থক হলেও শেখ গ্রুপের লোকজন আওয়ামী লীগের সমর্থক। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ গ্রুপের লোকজন জামায়াতের পক্ষ নেয়।
গত ২৮ জানুয়ারি চিংগড়িয়া গ্রামের লিচুতলা এলাকায় শেখ গ্রুপের হামলায় বিশ্বাস গ্রুপের নিজাম উদ্দিন নামে একজন মারা যান। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ নিহত হয় রাজিব শেখ। এলাকার মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিরোধের দ্রুত সমাধান করা দরকার বলে জানান তারা।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন গনমাধ্যম কে জানান, রাজিব শেখ হত্যাসহ অনেক বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে । পুলিশ অন্য অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। নিহত রাজিবের মরদেহ ময়না তদন্তের পর শনিবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।