রসুনের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

 রসুনের উপকারিতা কি

রসুনের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম
রসুনের উপকারিতা ও খাওয়ার নিয়ম

রসুন একটি সুস্বাদু সবজি যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। রসুন শুধুমাত্র আপনার খাবারের স্বাদ বাড়িয়ে দেয় এমনটা নয়, রসুনের রয়েছে আরো অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা
রসুনে রয়েছে ভিটামিন, ম্যাঙ্গানিজ, সেলেনিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি6, এবং অ্যালিসিন সহ অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মতো খনিজ যা সুস্থ জীবন যাপনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
রসুন প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। প্রাচীন গ্রীক চিকিৎসক হিপোক্রেটিস সমস্ত ধরণের অসুস্থতার জন্য রসুন ব্যবহার করতেন এবং তার চিকিৎসাও বেশ কার্যকরী ছিল।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রসুনের ব্যবহার চলে আসছে কারণ রসুনের রয়েছে অনেক উপকারী দিক।
আপনি যদি আপনার খাদ্য তালিকায় রসুন না রেখে থাকেন তাহলে আজই আপনার খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।
কেন আপনি আপনার খাদ্য তালিকায় রসুন অন্তর্ভুক্ত করবেন এবং রসুনের উপকারিতা কি সে সকল বিষয়ে আজকের এই টিউটোরিয়াল এর মাধ্যমে আমি বিস্তারিত বলবো।
রসুনের উপকারিতা কি কি এবং কেন আপনি রসুন আপনার খাদ্য তালিকায় যোগ করবেন তা জানার জন্য পুরো টিউটোরিয়ালটি মনোযোগ সহকারে পড়ুন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য রসুনের ব্যবহার

রসুনের রয়েছে anti-inflammatory উপাদান যা শরীরে রক্ত চলাচল আরো সহজ করে।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা রসুনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করে অর্থাৎ নিয়মিত রসুন খায় তাদের ক্ষেত্রে রক্তের চাপ ১০ শতাংশ কম থাকে।
আপনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আপনার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রসুন রাখবেন।
আর যদি আপনি রসুনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন তাহলে অবশ্যই ৬০০ থেকে ১৫০০ মিলিগ্রাম পরিপক্ক রসুনের নির্যাস গ্রহণ করুন অর্থাৎ প্রায় চারটি দানা (কোয়া)।

রসুন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখে

রসুন খেলে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যায়, যা আপনার কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত রসুন খায় তাদের কোলেস্টরেলের মাত্রা পাঁচ মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে।
প্রাকৃতিক নিরাময়গুলো শরীরে কাজ করতে কিছুটা সময় লাগে। ঠিক তেমনি, আপনি যদি আজ রসুন খাওয়া শুরু করেন তাহলে রেজাল্ট সাথে সাথে পাবেন না। কিছুটা সময় দিতে হবে।
আপনার শরীরে যে ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের ঘাটতি রয়েছে রসুন খাওয়ার মাধ্যমে সেগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণ হবে এবং আপনি রসুন খাওয়ার উপকারিতা বুঝতে পারবেন।
আপনার দৈনন্দিন রুটিন রসুন যোগ করুন এবং একটি আজীবনের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা করুন।
স্বাস্থ্যকর এবং সুখী জীবন যাপনের জন্য রসুন খাওয়া অপরিহার্য।

রসুন আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাবে

যেহেতু রসুন খেলে ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে যায়, তাই রসুন খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
রসুন খেলে আপনার রক্তনালীগুলো শিথিল হয় এবং প্লেটলেট একত্রিত হওয়া রোধ করে আপনার হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও দুর্দান্ত ভূমিকা রাখে।
রসুন খেলে শরীরে নাইট্রিক অক্সাইডের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় যা রক্তনালীকে শিথিল রাখে। নাইট্রিক অক্সাইড প্লেটলেটগুলিকে প্রোটিনের সাথে যুক্ত হতে বাধা দেয় এবং রক্তের জমাট বাঁধা ভাব কমায়।
হার্টের রোগ সারাতে রসুনের কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং সর্বজনস্বীকৃত। তাই আপনার যদি হার্টের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনি খাদ্যতালিকায় রসুন রাখবেন।

সর্দি-কাশি এবং ফ্লু জনিত রোগের জন্য রসুন 

রসুন খেলে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। রসুন ঠান্ডা ও ফ্লু জনিত রোগের লক্ষণ এর তীব্রতা কমায়
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যারা প্রতিদিন রসুন গ্রহণ করে সেই সকল লোকদের সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ৬৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
এবং আরো একটি গবেষণায় জানা গেছে যে, যারা নিয়মিত রসুন খায় তাদের ঠান্ডা জ্বরের উপসর্গের গড় দৈর্ঘ্য পাঁচ দিন থেকে কমে দেড় দিন চলে আসছে।
আপনি যদি রসুন পছন্দ করেন তাহলে শীতে দিনগুলোতে বেশি বেশি রসুন খেয়ে ঠান্ডা জ্বরের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। 

ভালো অ্যাথলেটিক পারফরমেন্সের জন্য রসুন খান

প্রাচীন অ্যাথলেটিকরা শারীরিক পরিশ্রম করার পর রসুন খেত। রসুন খেলে ক্লান্তি দূর হয়।
আধুনিক ক্রীড়াবিদরাও রসুন গ্রহণ করেন তাদের ক্লান্তি দূর করার জন্য। 
নিয়মিত রসুন খেলে শারীরিক গঠন ভালো হয়। শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং পরিশ্রম করার ক্ষমতা বেড়ে যায়।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, হূদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা যদি ছয় সপ্তাহ ধরে রসুন খায় তাহলে তাদের হৃদস্পন্দনের হার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তারা বেশিক্ষণ ধরে ব্যায়াম করতে পেরেছে।
আপনি যদি ফিট থাকতে চান এবং আপনি যদি রসুন খেতে পছন্দ করেন তাহলে আপনার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রসুন যোগ করুন। রসুন আপনার সুস্থতা নিশ্চিত করবে।

রসুন খেলে হাড় মজবুত হয়

বেশ কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে রসুন মহিলাদের মধ্যে ইস্ট্রোজেন বাড়িয়ে হাড়ের ক্ষয় কমাতে সাহায্য করতে পারে।
মহিলাদের মেনোপজের (মাসিক বন্ধ হওয়া অবস্থা) পরে হাড়ের ক্ষয় হয়ে থাকে তাই রসুন খেলে মহিলাদের হাড়ের ক্ষয় রোধ হয়।
আপনি যদি দৈনিক রসুন খান তাহলে আপনার ‌অস্টিওপোরোসিস এবং অস্টিওআর্থারাইটিসের ঝুঁকি  অনেকাংশেই কমে যাবে।
হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধির জন্য রসুন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রসুন হাড় ক্ষয় রোধ করে।
যে কোন মাছ অথবা মাংস রান্না করার সময় আপনি রান্নার ভিতরে যথেষ্ট পরিমাণ রসুন ব্যবহার করবেন।

রসুন স্মৃতিশক্তি বাড়ায়

ফ্রি র‌্যাডিক্যাল এর কারণে শরীরে বাধ্যক্য চলে আসে।
রসুনের রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ফ্রি র‌্যাডিক্যালের সাথে যুদ্ধ করে শরীরের বাধ্যক্য আসতে দেয় না। 
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিস্কের স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া থেকে রক্ষা করে।
রসুন খেলে কোলেস্টরেল এবং রক্তচাপ কমে, যে কারণে মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পায়।
রসুন খেলে ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমার মতো মস্তিষ্কের রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়।
আপনি যদি আপনার স্মৃতিশক্তি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চান তাহলে প্রতিদিন রসুন খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

রসুন ত্বক ভালো রাখে

রসুনকে বলা হয় সুপারফুড কারণ এতে অনেকগুলো স্বাস্থ্য উপাদান রয়েছে; 
  • অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
  • অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল 
  • অ্যান্টিফাঙ্গাল
এই উপাদানগুলো আপনার ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। ত্বক ভালো রাখার ক্ষেত্রে রসুন বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
আপনার মুখে যদি ব্রণের তাহলে ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলার জন্য মুখে কাঁচা রসুন ঘষে নিন। তবে মুখের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল তাই অতিরিক্ত করবেন না।
নিয়মিত রসুন খেলে মুখে বার্ধক্যের ছাপ দেরীতে আসে। রসুন নতুন কোষ তৈরিতে সহায়তা করে।
রসুনে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলী আপনার ত্বকের জন্য খুবই উপকারী এবং ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।

চুলের জন্য রসুনের উপকারিতা

রসুন চুলের জন্য বেশ উপকারী। চুল পড়া কমানোর ক্ষেত্রে রসুন ব্যবহার করতে পারেন এবং কাঁচা রসুন মাথায় ব্যবহার করলে খুশকি দূর হয় এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।
রসুন খেলে চুলের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত উপকারিতা আপনি পাবেন
  • চুল পড়া কমায়, 
  • খুশকি দূর করে, 
  • নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে

মধু ও রসুনের উপকারিতা

মধু ও রসুন একসাথে মিশিয়ে খেলে শরীরের বিভিন্ন রোগ দূর হয়। আপনি যদি সর্দি-কাশিতে ভুগে থাকেন তাহলে মধু এবং রসুন এর মিশ্রণ খেতে পারেন।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ও মধু এবং রসুন বেশ কার্যকরী।

মধু ও রসুন একসাথে খেলে আপনার সেক্স পাওয়ার বৃদ্ধি পাবে। আপনি যদি শারীরিক দুর্বলতায় ভূগে থাকেন তাহলে মধু ও রসুন একসাথে খেতে পারেন।

মেয়েদের জন্য রসুন

মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য রসুন খুবই উপকারী। রসুনের রয়েছে সেলেনিয়াম নামক এক ধরনের খনিজ যা মেয়েদের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
সেলেনিয়াম মহিলাদের গর্ভপাতের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও রসুনে ভিটামিন B6 থাকার কারণে মেয়েদের শরীরের হরমোন এর নিয়ন্ত্রণ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
তাই মহিলাদের নিয়মিত রসুন খাওয়া উচিত।

পুরুষের জন্য রসুন

পুরুষদের স্বাস্থ্যের জন্য রসুন অত্যন্ত উপকারী। রসুন পুরুষদের ফার্টিলিটি বাড়াতে সাহায্য করে।
রসুন রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করে। রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি করার কারণনে এটি যৌন উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত রসুন খায় তাদের শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পুরুষের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বাড়াতেও রসুনের জুড়ি নেই। রসুনের রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিশেষ কিছু খণিজ যেগুলো পুরুষের টেস্টোস্টেরন সহজেই বাড়িয়ে দেয়।
মধু এবং রসুন একসাথে খেলে পুরুষের যৌন উদ্দীপনা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও শুক্রাণু বৃদ্ধির জন্য রসুন, মধু এবং দুধ একসাথে খাওয়া উচিত।

ঠান্ডায় রসুনের উপকারিতা

রসুন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। রসুনে রয়েছে সালফার যা শরীরে শ্বেত রক্তকণিকার সঙ্গে ভাইরাসের সংযোগ ঘটাতে বাধা প্রদান করে। শীতকালে রসুন খুবই উপকারী। নিয়মিত রসুন খেলে সর্দি-কাশি এবং ফ্লু সহজে হয় না। রসুন রক্তের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয়, তাই শীতকালে রসুন খেলে শরীর গরম থাকে।

ডায়াবেটিসে রসুনের উপকারিতা

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানতে পেরেছেন যে, পরিমিত পরিমাণ রসুন খেলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকার হয়। কাঁচা বা রান্না করা রসুন রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমিয়ে দেয় এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আদা ও রসুনের উপকারিতা

আদা এবং রসুন একসাথে ব্যবহার করলে নানাবিধ উপকার পাওয়া যায়। আপনি যদি কোন স্থানে আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে আদা, রসুন ভালো করে ব্লেন্ড করে নিয়ে সরিষার তেলের সাথে মিশিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি হালকা গরম করে আপনার ব্যাথা পাওয়া স্থানে দিয়ে ভালো করে মালিশ করুন। দেখবেন খুব দ্রুতই আপনি ব্যথা থেকে উপশম পেয়েছেন।

রসুনের আচারের উপকারিতা

কাঁচা রসুন অনেকেই খেতে পারে না। তাই আপনি চাইলে রসুনের আচার তৈরি করে নিয়ে রসুনের পুষ্টিগত গুন নিতে পারেন। রসুনের আচার অত্যন্ত সুস্বাদু হয় এবং অনেক স্বাস্থ্য ভ্যালু রয়েছে।
রসুনের রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি-ভাইরাল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কাঁচা রসুন খেতে না পারলে আপনি রসুনের আচার খান তাহলে এই উপাদান গুলো আপনি সহজেই পেয়ে যাবেন।
আশা করি রসুনের গুনাগুন সম্পর্কে আপনি অনেক কিছুই জানতে পেরেছেন। যদি পোস্টটি পড়ে আপনার ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই আপনি এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top