
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপুকুরিয়া শিলক খালের ব্রিজঘাট এলাকায় ভয়াবহ ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রবল স্রোতের তোড়ে রাঙ্গুনিয়া–বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটি–বান্দরবান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ বেইলী ব্রিজের দক্ষিণ পাশের পিলার ও সংযোগ সড়ক ধসে পড়ায় বান্দরবানসহ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে মাটি ধসে কয়েকটি বিদ্যুৎ খুঁটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর প্রায় ৪টার দিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতের কারণে শিলক খালের দক্ষিণ পাশের সংযোগ সড়ক এবং ব্রিজের একটি অংশ হঠাৎ ধসে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ে, ফলে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া সেতুর পূর্ব পাশে অবস্থিত নাপিতপুকুরিয়া–দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যাম প্রকল্পের বেড়িবাঁধও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে ভেঙে বিলীন হয়ে গেছে। এতে খালের পানির প্রবাহ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল এই সেতু। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পদুয়া ইউনিয়নের বিশাল জনপদ কার্যত রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে প্রবল ভাঙনের কারণে সেতুর দক্ষিণ পাশে থাকা কয়েকটি দোকান, বসতঘর এবং সড়কের অংশও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে অল্প সময়ের মধ্যেই আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
স্থানীয় এক ব্যাক্তি জানান, অতিরিক্ত ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দুধপুকুরিয়া রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর নদীর পানির প্রবল স্রোত সরাসরি ব্রিজের দক্ষিণ অংশে আঘাত হানে। এতে বেইলী ব্রিজের পিলার ও সংযোগ সড়ক ধসে পড়ে এবং বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার পানিতে অনেক মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে এবং শত শত পরিবার এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে শিলক খালের দুই তীরের আউশ ধান, শাকসবজি, কৃষিজমি, বসতভিটা এবং গৃহপালিত পশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবার তাদের সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে শিলক খাল প্রায় ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর হয়ে গেছে, যা বর্তমান ভয়াবহ ভাঙনের অন্যতম কারণ। যদিও বর্তমানে সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে, তবে স্থানীয়দের মতে, বিগত কয়েক বছরে ব্যাপক বালু উত্তোলনের কারণে খালের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ যথেষ্ট মজবুত না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণ, স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এই জনপদের জীবন, সম্পদ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
Viral NewsBD | ভাইরাল নিউজ (viralnewsbd.com) একটি স্বাধীন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যা বাংলাদেশ ও বিশ্বের ভাইরাল খবর, ক্রাইম, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা প্রচার করে। আমরা সত্য ও নির্ভীক সাংবাদিকতার প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ।
ধন্যবাদ Viral NewsBD | ভাইরাল নিউজ -এর সাথে থাকার জন্য!
Copyright © 2026 Viral NewsBD | ভাইরাল নিউজ. All rights reserved.